আমাদেরও একজন আছে

58

জুবায়ের আহমেদ

টেস্ট অঙ্গনে এখনো ছোট দল হয়ে থাকা বাংলাদেশ দলের কোন ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে দশ হাজার রান করেছে, তা অনেকটাই অবিশ্বাস্য ঘটনার মতো। এমন কাজটিই করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তুষার ইমরান। দেশের হয়ে একমাত্র ১০ হাজার রান করা ব্যাটসম্যানও তিনি।

আজ তুষার ইমরানের জন্মদিন। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে অনেক সম্ভাবনা নিয়েই ২০০১ সালে পা রাখেন তুষার। অভিষেকের পর থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৪১ ওয়ানডে খেলেন তিনি। সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন পাকিস্তানের সাথে। ৪১ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি ফিফটি করেন। সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন ২০০৭/০৮ এ নিউজিল্যান্ড এর সাথে, সেই ম্যাচে তিনি ১ রান করেন। ৪১ ম্যাচ খেলে টপঅর্ডারে ব্যাট করে তিনি ৫৭৪ রান করেন তম্মধ্যে ৮বার শুণ্য রানে আউট হন তিনি। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে ম্যাচে ১টি উইকেটও পান তিনি।

২০০২ সালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক, ম্যাচের ২য় ইনিংসে ২৮ রান করেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে শ্রীলংকা সিরিজের শেষ টেস্টে ১৭ রান করে দুই ইনিংস এ ৩৪ রান করেন। ৫ টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০ ইনিংস এ তিনি ৩ বার শুণ্য রানে আউট হন। এবং সর্বমোট ৮৯ রান করেন। সর্বোচ্চ ২৮ রান। তৎপর কোন ধরনের ক্রিকেটেই আর ডাক পড়েনি তার।

একজন তুষার ইমরানকে শুধুমাত্র জাতীয় দলের পরিসংখ্যান দিয়েই মাপা যাচ্ছে না। কেননা তিনি ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে স্বীকৃত ক্রিকেট তথা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যেখানে তিনি শুধুই একক অবস্থানে অধিষ্ঠিত। বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পেয়েছেন ১০ হাজার রান। সর্বোচ্চ ৩১টি সেঞ্চুরী ও ৬২টি ফিফটিও তুষার ইমরানের দখলে। এ পর্যন্ত ১৭৭ ম্যাচে ৩১ সেঞ্চুরী ও ৬২টি ফিফটিতে ১১৭০৪ রান করেছেন এবং লিস্ট-এ তে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০৬ রান করেন। মোট রান করেছেন ৩৯৬৯।

সর্বশেষ জাতীয় লীগে খেলেছেন ৪৩, ৫৫, ৫৮ ও ৮২ রানের ইনিংস। সর্বশেষ দুই ম্যাচে এক ইনিংস করে ব্যাট করে ৫৮ ও ৮২ রান করেছেন। তুষারের দল খুলনা বিভাগও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জাতীয় লীগে খুলনাকে চ্যাম্পিয়ন করতে বারবারই ভূমিকা রেখেছেন তুষার।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সফলতার বিপরীতে জাতীয় দলে ব্যর্থ বলা হলেও একজন ক্রিকেটার পরিণত বয়সেই নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে পারেন, তুষারও দিয়েছেন। তবে তা জাতীয় দলে নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে। ২০০৭ সালে বাদ পড়া তুষার ইমরানের বয়স ছিল মাত্র ২৪। যে বয়সে এখনো অনেক দেশের ক্রিকেটারদের অভিষেক হয় মাত্র এবং এর বেশি বয়সেও অভিষেকের ঘটনা অনেক। পরিণত হয়ে দেশকে দেয়ার সময়েই বঞ্চিত হয়েছেন তুষার। বছরের পর বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে সবার সেরা পারফর্ম করেও উপেক্ষিত থেকেছেন। ২০১৭ সালে দূর্দান্ত ব্যাট করে আবারো জাতীয় দলে সুযোগের সম্ভাবনা তৈরী করলেও সে সুযোগ পাননি তুষার। অথচ জাতীয় দলের বাজে টেস্ট খেলার বিপরীতে তুষারের ব্যাটিং ছিলো অবিশ্বাস্য।

জাতীয় দলের হয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলা হলেও, অবশ্য অভিষেকের পর নিজেকে প্রমাণ করেই ৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন তুষার। অভিষেক থেকে ৬, ২১, ৬৫, ৪৩, ৬১ রানের ইনিংস খেলেন, যা তখনকার সময়ে সেরা ক্রিকেটের অংশই ছিলো। কিন্তু তারপর আরো ৩৫টি ম্যাচ খেলে একটি ফিফটিও করতে পারেননি, সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছিলেন ২০০৩ সালে কেনিয়ার সাথে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কলিতেই ঝড়ে পড়া তুষার ইমরান ঘরোয়া ক্রিকেটে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা রান সংগ্রাহক, সেঞ্চুরীয়ান ও ফিফটির অধিকারী। জাতীয় দলে ক্যারিয়ার গড়তে না পারলেও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের হিরো হয়েই থাকবেন সমর্থকদের হৃদয়ে। অন্যান্য দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের দিকে তাকিয়ে আমাদের কণ্ঠে আক্ষেপ ঝড়লেও আমরা বলতে পারবো আমাদেরও একজন আছে যিনি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১ হাজারেরও বেশি রান করেছেন। হয়েছেন দেশীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার।