সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়ে আমার নিয়মিত আয়োজন “ইতিহাসের পাতা থেকে” থেকে লেখতে গিয়ে খেয়াল করেছি,,টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ স্টাইলের ব্যাটসম্যান, পেস, স্পিনার বোলার কোনটারই কমতি ছিলো না বাংলাদেশ ক্রিকেটে। প্রতিটি মাধ্যমেই পর্যাপ্ত ক্রিকেটার এসেছে আমাদের জাতীয় দলে। গুটি কয়েক টিকে আছে, গুটি কয়ে মাঝপথে থমকে আছে, গুটি কয়েক শুরুতেই হারিয়ে গেছে। থমকে থাকা ক্রিকেটারদের তালিকার অন্যতম একজন আলআমিন হোসাইন।

অনেক সম্ভাবনা নিয়ে একজন পেস বোলার হিসেবে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড এর সাথে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১ বলে কোন রান না করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ ২৮২ রান সংগ্রহ করে। তারপর বল হাতে ১৬ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন। নিউজিল্যান্ড ৪৩৭ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২৬৯ রান সংগ্রহ করার পরই ম্যাচটি ড্র হয়। ব্যাট করার সুযোগ হয়নি আল আমিনের।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট পর্যন্ত মাত্র ৬টি টেস্ট খেলে ব্যাট হাতে ৩২ রান বেস্টে ৬৮ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে ৩ উইকেট বেস্টে মাত্র ৬ উইকেট সংগ্রহ করেন। ফিল্ডার হিসেবে কোন ক্যাচ ধরতে পারেননি।

২০১৪ সালে শ্রীলংকার সাথে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে ১৮০ রানে অলআউট হয় শ্রীলংকা। বল হাতে ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন আলআমিন। তারপর সামসুর রহমানের ৬২ ও মোমিনুল এর ৪৪ রানের পরও বাংলাদেশ ১৩ রানে পরাজয় বরণ করে ম্যাচটি। আল আমিন ৫ বলে ২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৫ সালের জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে পর্যন্ত মাত্র ১৪টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ২ রান বেস্টে ৪ রান ও বল হাতে ৪ উইকেট বেস্টে ২১ উইকেট শিকার করেন। ফিল্ডার হিসেবে ১টি ক্যাচ ধরেন।

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড এর সাথে টি২০ অভিষেক। ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ২০৪ রান সংগ্রহ করে। ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন আল আমিন। মুশফিকের ফিফটিতে বাংলাদেশ ১৮৯ রান সংগ্রহ করে। আল আমিন করেন ৩ বলে ৫ রান। নিউজিল্যান্ড ১৫ রানে জয়লাভ করে।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৬ সালের নিউজিল্যান্ড ম্যাচ পর্যন্ত ২৫টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৫ রান বেস্টে ৭ রান করেন এবং বল হাতে ৩ উইকেট বেস্টে ৩৯ উইকেট শিকার করেন।

টেস্ট ক্রিকেটে ইতিমধ্যে ৬টি ম্যাচ খেললেও নিজের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিতে পারেননি তিনি। ৬ টেস্টে মাত্র ৬ উইকেট শিকার করেন।

তবে লঙ্গার ভার্সনে তেমন সাফল্য না পেলেও একদিনের ক্রিকেটেই দুর্দান্ত তিনি। মাত্র ১৪টি ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে বেস্টে ২১ উইকেটই তার প্রমাণ।

টি২০ ম্যাচে আরো ভয়ংকর তিনি। দলের হয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলে ৩ উইকেট বেস্টে ৩৯ উইকেট শিকার করেছেন। আল আমিনের খেলা সর্বশেষ ১৪টি ম্যাচে ২২ উইকেট শিকার করেছেন। ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ টি২০ উইকেটশিকারী পেস বোলারও আলআমিন হোসাইন।

একদিনের ক্রিকেটে এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকার সময়েই জাতীয় দলে অবহেলিত আল আমিন হোসাইন। টি২০ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দুটি সিরিজ খেললেও প্রথমটিতে ডাক পাননি আল আমিন। ইংল্যান্ডের সাথে দলে ফেরানো হলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি এবং টেস্ট দলে ডাকই পাননি তিনি।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঠুনকো অভিযোগ এনে দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার হওয়া স্বত্বেও দেশে ফেরত পাঠানো হয় আলআমিনকে। তারপর দীর্ঘদিন ধরে দলে ডাক পাননি তিনি। সবশেষে দলে ফিরেই দূর্দান্ত বোলিং করতে থাকেন তিনি। তবে সর্বশেষ বেশ কয়েকটি সিরিজে সিরিজে/একাদশে না থাকায় সন্দেহের দানা বাসা বাঁধছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। আবারো পূর্বের মতো কিছু হলো না তো??

ফর্মে না থাকলে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় কিংবা কখনো কখনো ক্রিকেটের নিয়ম কানুনের ব্যত্যয় করলেও বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু আলআমিনকে ঠিক কি কারনে বসিয়ে রাখা হচ্ছে তা ক্রিকেটপ্রেমীদের বোধগম্য নয়।

অথচ আলআমিনকে বসিয়ে যাদের খেলানো হচ্ছে ওরা আলআমিনের চেয়ে ভালো বোলার নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আশা করবো নির্বাচকরা সেরাদের সমন্বয়ে দল গঠন করবেন।

ঘরোয়া লীগে নিয়মিত ভালো বোলিং করেই আবারো দলে ফিরবেন আল আমিন, এই কামনা করছি।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক