ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা, জাতীয় দলে ব্যর্থ তুষার ইমরানের ক্যারিয়ারের বিস্তারিত

157

একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে তুষার ইমরানের ২০০১/০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়। অভিষেক ম্যাচে ৬ রান রান করেন তিনি।

তৎপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৪১ ওয়ানডে খেলেন তিনি। সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন পাকিস্তানের সাথে। ৪১ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি ফিফটি করেন। সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন ২০০৭/০৮ এ নিউজিল্যান্ড এর বিরুদ্ধে, সেই ম্যাচে তিনি ১ রান করেন। ৪১ ম্যাচ খেলে টপঅর্ডারে ব্যাট করে তিনি ৫৭৪ রান করেন তম্মধ্যে ৮বার শুণ্য রানে আউট হন তিনি। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে ম্যাচে ১টি উইকেটও পান তিনি।

২০০২ সালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক, ম্যাচের ২য় ইনিংসে ২৮ রান করেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে শ্রীলংকা সিরিজের শেষ টেস্টে ১৭ রান করে দুই ইনিংস এ ৩৪ রান করেন। ৫ টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০ ইনিংস এ তিনি ৩ বার শুণ্য রানে আউট হন। এবং সর্বমোট ৮৯ রান করেন। সর্বোচ্চ ২৮ রান। তৎপর কোন ধরনের ক্রিকেটেই আর ডাক পড়েনি তার।

অথচ ঘরোয়ী লীগে ধারাবাহিক ভাবেই ভালো করেন তিনি। অন্যতম সেরা ক্রিকেটারও বলা যায় তাকে। প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তিনি সর্বোচ্চ ২২০ রান করেন, ২৩ সেঞ্চুরী ও ২টি ডাবল সেঞ্চুরী আছে তার। রান করেছেন মোট ৯৪৮৩ রান, যা সেরা ক্রিকেটের অংশ এবং লিস্ট-এ তে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০৬ রান করেন। মোট রান করেছেন ৩৯৬৯।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ৩০/৪০ এর অধিক ম্যাচ খেলেছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে একেবারেই ব্যর্থ ক্রিকেটারই বলা যায় তুষার ইমরানকে। আশ্চর্য্যজনক বিষয় হলো, তুষার ব্যর্থ হলেও তাকে নিয়ে আলোচনাই হয়েছে বেশি, সমালোচনার সুযোগ হয়নি কখনো। কেননা ২০০১ থেকে ২০০৭/০৮ মৌসুম পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যখনই চরম বিপর্যয়ে পড়েছে ঠিক তখনই তার ডাক পড়েছে কিন্তু কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দিয়ে কখনোই তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাকে সমর্থন করার মতো পারফরম্যান্সও কখনো তিনি করতে পারেননি।

যদিও ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন ছিল। কিন্তু তারমধ্যেও মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি, নাজমুল হোসেন, আফতাব আহমেদ, শাহরিয়ার নাফিজ, এনামুল হক জুনিয়র, অলক কাপালি, সৈয়দ রাসেল, শাহাদাত হোসেন, সাকিব তামিম মুশফিক এর মতো ক্রিকেটাররা নিজেদের সর্বোচ্চটা ঢেলে দিয়ে তারকা ক্রিকেটার হতে পেরেছেন।

জাতীয় দলে অভিষেকের পরই নিজেকে অবশ্য প্রমাণ করেছিলেন। অভিষেক থেকে ৬, ২১, ৬৫, ৪৩, ৬১ রানের ইনিংস খেলেন, যা সেরা ক্রিকেটের অংশই ছিলো। কিন্তু তারপর আরো ৩৫টি ম্যাচ খেলে একটি ফিফটিও করতে পারেননি, সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছিলেন ২০০৩ সালে কেনিয়ার সাথে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময়েই সেরা ক্রিকেট খেলেন তিনি। সর্বশেষ বেশ কয়েকটি মৌসুমে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন, ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ভাবনাও এসেছিল তুষারকে আবারো টেস্টে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বোর্ড তরুনদের উপরই আস্থা রেখেছে, ভাবনাতেও আনেনি তুষারকে।

জাতীয় দলে খেলে সব ক্রিকেটার সফল হয় না, তারপরও চেষ্টার কমতি ছিলো না তার মাঝে। বোর্ডও আস্থা রেখেছিল তার উপর। কিন্তু জাতীয় দলে নিজেকে শুরুতে প্রমাণ করেও আর জ্বলে উঠতে পারেননি।

সর্বশেষ কয়েকটি মৌসুমে অসাধারণ ফর্ম প্রদর্শন করেও যেহেতু দলে জায়গা হয়নি, ভবিষ্যতে আর তাকে নির্বাচকরা সুযোগ দেবেন, এমন প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না। তাই তুষারের আসল ঠিকানা ঘরোয়া লীগই। তুষারের ক্যারিয়ারের একটা ব্যর্থতা আছে, তা হলো এখনো বিপিএলে খেলতে পারেননি, তবে ফর্মে তুঙ্গে থাকা তুষার ইমরান আসন্ন বিপিএলের ক্রিকেটার তালিকায় থাকবেন কিনা এবং দল পাবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক