ওয়ালটন চতুর্থ জাতীয় মহিলা হকি প্রতিযোগিতা-২০১৮’ তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনা বিভাগ। আজ সোমবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে খুলনা বিভাগ ১-০ গোলে ঢাকা বিভাগকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। এটা খুলনা বিভাগের প্রথম শিরোপা। খেলাটি এটিএন বাংলা ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

ফাইনালে খুলনা বিভাগের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন জেসি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে তিনি গোলটি করেন। এর আগে সকালে তৃতীয় ও চতুর্থ ন্থান নির্ধারনী খেলায় রংপুর বিভাগ ৩-১ গোলে রাজশাহী বিভাগকে পরাজিত করে।

চ্যাম্পিয়ন দল খুলনা বিভাগকে ট্রফি ও ৬০ হাজার টাকার চেক এবং রানার আপ দল ঢাকা বিভাগকে ট্রফি ও ৪০ হাজার টাকা চেক প্রদান করা হয়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন খুলনা বিভাগের নমিতা কর্মকার। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন।

তারা হলেন খুলনার কিমি কর্মকার, ঢাকার সুমি আক্তার এবং রংপুরের তাসনিম আক্তার। তারা সকলেই সমানসংখ্যক ৫ টি করে গোল করে। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ উভয় দলের খেলোয়াড়দের ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হয়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতাদের ৫ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও ওয়ালটন গ্রুপের হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হয়।

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর (গেমস এন্ড স্পোটর্স) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন)। এ সময় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক, টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মো. বদরুল ইসলাম দিপু ও ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবগণ উপস্থিত ছিলেন।
এই টুর্নামেন্টে যারা ভালো করছেন তাদের নিয়ে গঠন করা হবে মহিলা হকির জাতীয় দল।

এবারের এই প্রতিযোগিতা সাতটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয়। ‘ক’ গ্রুপে ছিল খুলনা বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ। ‘খ’ গ্রুপে ছিল ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ ও রংপুর বিভাগ। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হয় গ্রুপ পর্বের খেলা। ৩০ সেপ্টেম্বর হয় দুটি সেমিফাইনাল। আর আজ ১ অক্টোবর হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল।

২০১২ আয়োজিত প্রথম জাতীয় মহিলা হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নড়াইল জেলা মিউনিসিপ্যাল স্কুল, রানার্স-আপ হয়েছিল দিনাজপুর জেলা।

২০১৩ সালে আয়োজিত দ্বিতীয় জাতীয় মহিলা হকি প্রতিযোগিতায় আবারো চ্যাম্পিয়ন হয় নড়াইল জেলা মিউনিসিপ্যাল স্কুল। রানার্স-আপ হয় দিনাজপুর জেলা। আর ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঝিনাইদাহ জেলা। আর রানার্স-আপ হয়েছিল নড়াইল জেলা। এবার চ্যাম্পিয়ন হল খুলনা বিভাগ। আর রানার্স-আপ হল ঢাকা বিভাগ।

এই প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টনার ছিল এটিএন বাংলা। সহযোগিতায় ছিল ওয়ালটন গ্রুপের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড মার্সেল। আর অনলাইন পার্টনার হিসেবে ছিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি.কম।

তথ্য:রাইজিংবিডি ডটকম।