জুনায়েদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিস্তারিত

501

জুবায়ের আহমেদ, ক্রিকবল নিউজ:বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী একজন ড্যাসিং ওপেনার হিসাবে ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাথে টি২০ অভিষেক। ম্যাচে তামিমের সাথে ওপেনিং করতে নামলে তামিম ৮ বলে ৩ রান করে আউট হলেও ৪৯ বলে ৭১ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন সিদ্দিকী। অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ মাত্র ১৪০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফ্রিদির ১৫ বলে ৩৯ ও ইমরান নাজিরের ১৭ বলে ২৭ রানের সুবাদে ৪ উইকেটে জয় লাভ করে। তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১২ সালের নেদারল্যান্ড ম্যাচ পর্যন্ত ৭টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৭১ রান বেস্টে ১৫৯ রান সংগ্রহ করেন। ফিল্ডার হিসেবে ১টি ক্যাচ ধরেন।

টি২০ অভিষেকেই সাফল্যের পর একই সালে নিউজিল্যান্ডের সাথে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে তামিমের সাথে ওপেনিং করতে নেমে ৩৩ বলে ১৩ রান করে আউট হন। অধিনায়ক আশরাফুলের ৫৭ বলে ৭০ ও তামিমের ৬৬ বলে ৫০ রানের সুবাদে ২০১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে জেমি হাও এর ৮৮ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে জয়লাভ করে নিউজিল্যান্ড।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১১ সালের জিম্বাবুয়ে ম্যাচ পর্যন্ত ৫৪টি ম্যাচ খেলে ১০০ রান বেস্টে ১ সেঞ্চুরী ও ৬ ফিফটিতে ১১৯৬ রান সংগ্রহ করেন। ফিল্ডার হিসেবে ২৩টি ক্যাচ ধরেন। ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরী করেন ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ড এর সাথে। তবে এ ম্যাচে আয়ারল্যান্ড জয়লাভ করে।

২০০৭/০৮ সেশনে তথা ২০০৭ সালের শেষের দিকে নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম টেস্টেই অভিষেক। প্রথম ইনিংসে ৮ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন তিনি। আরেক অভিষিক্ত তামিম ইকবালের ৫৩ রানের পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৩৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে নিউজিল্যান্ড ওরাম ও মেথু বেল এর সেঞ্চুরীতে ৩৫৭ রান সংগ্রহ করলে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তামিমের ৮৪ সিদ্দিকীর ৭৪ রানের সুবাদে ১৬১ রানের ওপেনিং জুটি গড়লেও অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় মাত্র ২৫৪ রানে অলআউট হলে ৩৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে জয়লাভ করে নিউজিল্যান্ড।

অভিষিক্ত তামিম দুই ইনিংসেই ফিফটি করেন এবং জুনায়েদ সিদ্দিকীও অভিষিক্ত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যরে পরিচয় দেন। তৎপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১২ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট পর্যন্ত ১৯টি টেস্ট খেলে ১০৬ রান বেস্টে ১ সেঞ্চুরী ও ৭ ফিফটিতে ৯৬৯ রান করেন। ফিল্ডার হিসেবে ১১টি ক্যাচ ধরেন। ক্যারিয়ার সেরা ১০৬ রান করেন ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড সিরিজের ১ম ম্যাচে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন।

২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নিয়মিতই জাতীয় দলে খেলেছেন। তারপর কিছুটা অফফর্মের কারনে এবং ভালো বিকল্প তৈরী হওয়ার কারনে দল থেকে ছিটকে পড়েন জুনায়েদ।

জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি ফ্যাশন সচেতন ও স্টাইলিষ্ট ক্রিকেটার হিসেবে আলাদা একটা পরিচিতি আছে জুনায়েদের। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাহিরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফরর্মার জুনায়েদ। সর্বশেষ বিপিএলে আলো ছড়ানো পারফর্ম করে আলোচনায় আসলেও সুযোগ হয়নি জাতীয় দলে।

জুনায়েদ সিদ্দিকীর বর্তমান বয়স মাত্র ৩২। গতকালই ৩২ বৎসরে পা রেখেছেন তিনি। খেলাধূলার পাশাপাশি একজন ধার্মিক হিসেবেও পরিচিত তিনি। প্রত্যাশা থাকবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আবারো জাতীয় দলে জায়গা করে নেবেন।