দূর্ভাগা ওপেনার এনামুল হক বিজয়: ক্যারিয়ারের সাফল্য ব্যর্থতা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ওপেনার আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছেন এবং ধারাবাহিক ভালো খেলেছেন, তাদের মধ্যে এনামুল হক বিজয়ও অন্যতম। যদিও দূর্ভাগ্যজনক ভাবে দলে নিয়মিত হতে পারছেন না তিনি।

২০১২ সালে একজন উইকেটকিপার ওপেনার ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ১৯৯ রানের জবাবে তামিমের সাথে ওপেনিং করতে নেমে ৮৮ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। ৬২ বলে ৪১ রান করেন বিজয়। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়লাভ করে।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৫ সালের স্কটল্যান্ড ম্যাচ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৩০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১২০ রান বেস্টে ৩ সেঞ্চুরী ও ৩ ফিফটিতে ৯৫০ রান করেন বিজয়। ফিল্ডার হিসেবে ১০টি ক্যাচ ধরেন।

২০১৩ সালে শ্রীলংকার সাথে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে শ্রীলংকার ৫৭০ রানের জবাবে মুশফিকের ডাবল, নাসির ও আশরাফুল এর সেঞ্চুরীতে ৬৩৮ করে বাংলাদেশ। ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমে মাত্র ১৩ রান করেন বিজয়। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকা ৩৩৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে জয়ের জন্য ২৬৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৭০ রান করতেই ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়। ব্যাট হাতে মাত্র ১ রান করেন বিজয়।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ পর্যন্ত মাত্র ৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৮ ইনিংসে ২২ রান বেস্টে মাত্র ৭৩ রান করেন। ফিল্ডার হিসেবে ২টি ক্যাচ ধরেন তিনি।

২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টি২০ অভিষেক। ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ১৯৭ রানের জবাবে ১৭৯ রান করে বাংলাদেশ। ওপেনার তামিম ৬১ বলে ৮৮, ৪৮ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন রিয়াদ। বিজয় খেলেন ১২ বলে ২২ রানের ইনিংস।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৫ সালের জিম্বাবুয়ে ম্যাচ পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচ খেলে ৫৮ রান বেস্টে ১ ফিফটিতে ৩৫৫ রান করেন। ফিল্ডার হিসেবে ২টি ক্যাচ ধরেন।

৪টি টেস্ট খেলে ৮ ইনিংস ব্যাট করে কোন ফিফটি কিংবা সেঞ্চুরীই করতে পারেননি তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে পুরোপুরি ব্যর্থই বলা যায় বিজয়কে।

কিন্তু ওয়ানডেতে দূর্দান্ত তিনি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরী করে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই ওপেনার। মাত্র ৩০টি ম্যাচ খেলে ৩ সেঞ্চুরী করা নিঃসন্দেহে সেরা ক্রিকেটের অংশ। প্রথম ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটারই ৩টি সেঞ্চুরী করতে পারেননি।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ইনজুরীতে আক্রান্ত হওয়ার পর ওপেনার হিসেবে সৌম্যর সফলতার কারনেই দল থেকে ছিটকে পড়েন বিজয়। সৌম্য যে মানের ক্রিকেট খেলেছেন, সৌম্যকে বাদ দিয়ে বিজয়কে ফেরানোটা নির্বাচকদের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপারই ছিল। তাছাড়া আরেক অভিজ্ঞ ওপেনার কায়েস টেস্টে ভালো খেলায় সৌম্যের ব্যর্থতায় কায়েসই ছিলো প্রধান ভরসা এবং কায়েসও ভালো করায় ওপেনার বিজয়ের দলে ফেরার কোন সুযোগই তৈরী হচ্ছে না।

তাছাড়া সমালোচকদের দৃষ্টিতে ধীরগতিতে ব্যাট করার কারনে পারফরম্যান্স ভালো হলেও দলে ফিরতে পারছেন না তিনি।

তবে ২০১৫ সালে টি২০ দলে ফিরলেও প্রথম ইনিংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩ নাম্বার পজিশনে ব্যাট করে ৫১ বলে মাত্র ৪৭ রান করায় এবং বাংলাদেশ মাত্র ১৩৫ করে ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করার কারনে বিজয়কেই হারের কারন হিসেবে চিহিৃত করা হয়, যার ফলশ্র“তিতে পরবর্তীতে টি২০ দলেও টিকতে পারেননি তিনি।

পরবর্তীতে নিয়মিত ভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রিকেট খেললেও নির্বাচকদের নজর কাড়তে পারছেন না। ওয়ানডের পারফরম্যান্স বিবেচনায় বিজয়ই তামিমের যোগ্য সঙ্গী। তবে সৌম্য/কায়েসকে পাশে রেখে বিজয়কে নেওয়া নির্বাচকদের জন্য কঠিনই বটে। ঠিক পারফরম্যান্সের কারনে না হলেও ৩/৪ জন ওপেনার যোগ্য থাকায় বিজয়ই বাদের তালিকায় থাকছেন।

তবে আশার কথা হলো বর্তমান বয়স মাত্র ২৩। এই বয়সে অনেক ক্রিকেটারের অভিষেকও হয় না। নিজের সেরাটা প্রদর্শন করেই ফিরতে হবে বিজয়কে। বিজয় যে মানের ব্যাটসম্যান, দলে ফিরবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে শীঘ্রই যেন ফিরতে পারেন, এই কামনা করছি।

 

জুবায়ের আহমেদ

ক্রীড়া লেখক