খালেদ মাসুদ পাইলট বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন সেরা ক্রিকেটার এর নাম। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ১২ বৎসর ক্রিকেট খেলেছেন তিনি।

১৯৯৫ সালে এশিয়া কাপে ভারতের সাথে ওয়ানডে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করে পরের বলেই এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। প্রথম ইনিংস আমিনুল ইসলাম এর সর্বোচ্চ ৩০ রানের সৌজন্যে ১৬৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে মনোজ প্রভাকর, টেন্ডুলকার ও নবজিত সিধুর দূর্দান্ত ব্যাটিং এ ৯ উইকেটে জয় লাভ করে ভারত।

তারপর ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে খেলেন। ম্যাচে ২৮ বলে মাত্র ১১ রান সংগ্রহ করেন ও একটি ক্যাচ ধরেন।

১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মোট ১২৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন তিনি। অষ্ট্রোলিয়ার সাথে অপরাজিত ৭১ বেস্টে ৭ ফিফটিতে ১৮১৮ রান সংগ্রহ করেন তিনি। সাথে ৩৫টি ষ্ট্যাম্পিং ও ৯১টি ক্যাচ ধরেন তিনি।

২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টেই পাইলটের অভিষেক হয়। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ রান করেন।

তৎপর ২০০৭ সালে শ্রীলংকার সাথে টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৯ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে শ্রীলংকা ৪ সেঞ্চুরীতে ৫৭৭ রানের পাহাড় গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংস এ বাংলাদেশ ভালো শুরু করলেও ২৫৪ রানেই অলআউট হয়ে ইনিংস ও ২৩৪ রানে পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১ রান করেন পাইলট।

২০০০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৪৪টি টেস্ট খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে অপরাজিত ১০৩ বেস্টে ৩ ফিফটি ও একমাত্র সেঞ্চুরীতে ১৪০৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

একমাত্র সেঞ্চুরীর টেস্টটি আবার বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক টেস্ট। হাবিবুল বাশার ও রফিকের সেঞ্চুরী ও আশরাফুলের ৮১ রানের সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৬ রান সংগ্রহ করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫২ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে পাইলটের সেঞ্চুরীতে ২৭১ রান সংগ্রহ করলে ৩৩৬ রানের টার্গেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ২৩ ওভারে ১১৩ রান সংগ্রহ করার পরই বৃষ্টির কারনে ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়।

২০০৬ সালের শেষের দিকে মুশফিক জাতীয় দলে কিছুটা নিয়মিত হওয়ার সময়ে ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ দলে কাকে নেওয়া হবে এই জটিলতায় কোপ পড়ে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র পাইলট এর উপর। কিছুটা সমালোচনা হলেও মুশফিক ভারতের সাথে শুরুতেই ভালো খেলায় সেটা আর ডালপালা ছড়াতে পারেনি।

পাইলট শেষে সেরা কিপারের পাশাপাশি এশিয়ার সেরা কিপারও হয়েছিলেন। ২০০৩ সালে জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারনে অধিনায়কত্বের আসনটা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সফল ক্রিকেটারদের তালিকা করলে সেখানে থাকবে তার নামও। ২০১৪ সালের পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে এখন তিনি রাজশাহীতে ক্রিকেট একাডেমি পরিচালনা করছেন। আজকের এই দিনে যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন সব সময়, এই কামনা।

 

জুবায়ের আহমেদ

ক্রীড়া লেখক