না ফেরার দেশে ভারতীয় হকি কিংবদন্তী বলবীর সিং

158

নামের পাশে অলিম্পিকের তিন শিরোপা, যার আরেক পরিচয় গোল মেশিনরূপে। যার ভাগ্যে মিলেছে ভারত রত্নের খেতাব ও। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে ভারতের প্রয়াত হকি তারকা বলবীর সিংহের কথা। গত শনিবারে চন্ডীগড়ের এক হাসপাতালে ৯৫ বছর বয়সে দেহ রেখেছেন এই লিজেন্ড। তার দেহাবসানে শোকাতুর পুরো ভারতের ক্রীড়াঙ্গন।

১৯৪৮ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অলিম্পিকে অভিষেক, প্রথম ম্যাচেই করে বসেন ৬ গোল। এতে করে নিজের জাত চেনানোর পাশাপাশি দিয়ে রাখেন আগমনী বার্তা। সেই আসরের ফাইনালে গ্রেট ব্রিটেনের পোস্টে স্থান পায় তার দুটি গোল। ৫২’ র আসরে ভারতের করা ১৩ গোলের ৯ খান এসেছিলো সিংহের স্টিক থেকে। পরের আসরেও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে করেছিলেন ৫ গোল। ক্ষিপ্রতা এবং অপ্রতিরোধ্যতার প্রতীক বলা হতো তাকে।

খেলোয়াড়ি জীবনে মাঠ মাতানো বলবীরের কোচিং ক্যারিয়ারও ছিলো সমৃদ্ধ। ১৯৭১ সালে উদ্বোধনী হকি বিশ্বকাপে তার অধীনে ভারত ব্রোঞ্জ জিতেছিলো। ১৯৭৫ সালে বিশ্ব জয়ী দলের ম্যানেজার পদেও ছিলেন তিনি। উক্ত দলে ছিলেন ভারতের আরেক হকিরত্ন প্রয়াত মেজর ধ্যানচাঁদ পুত্র অশোক কুমার, অধিনায়কত্ব করেছিলেন অজিত পাল সিংহ।

প্রাক্তন গুনী ম্যানেজারের স্মৃতিচারণে অজিত পাল জানান, ” গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনার নিকট ১-২ ব্যবধানে হেরে দলের আত্নবিশ্বাস তলানীতে ঠেঁকে যাওয়ার যোগাড় প্রায়। হারের পরেরদিন সকালে জলখাবারের টেলিলে বলবীর সিংহ সিনিয়র একেক করে সকল খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়েছিলেন। আর তার সেই উজ্জীবিত মন্ত্র কাজ ও দিয়েছিলো বেশ জোড়ালোভাবে। পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ এ বিদ্ধ করে শেষ চারে স্থান করে নিই আমরা। সেমিতে মালয়েশিয়ানদের ৩-২ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হই। ফাইনালের স্নায়ুর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকবাহিনীকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আমার দল। “

এমন তারার বিচ্যুতিতে শোকস্তব্ধ পুরো হকি জগত, ঘোর অমানিশা গ্রাস করেছে পুরো ক্রীড়ামহলের নীল ক্যানভাসকে। তার প্রয়াণে ক্রিকেট তারকারারা তাদের নিজস্ব টুইটার হ্যান্ডেলে শোকজ্ঞাপন করেছেন।

শচীন টেন্ডুল্কার জানান, ” ভারতীয় হকির ইতিহাসে বলবীর সিংহ সিনিয়র ছিলেন অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব। উনার আত্নার শান্তি কামনা করি। “

কোহলি বলেন, ” তার মৃত্যুর খবরে মন ভারাক্রান্ত হয়ে গেল, তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। “

ভীরেন্দর সেওভাগের ভাষ্যে, ” সিংহজি চলে গেলেন, তার শোকাগ্রস্ত পরিবারের জন্য আমি ও বাকিদের মতো সমব্যথিত। “