প্রতিভাবান ওপেনার হান্নান সরকার!!!!

299

জুবায়ের আহমেদ: বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিভাবানের তালিকায় তার নামটা উপরেই থাকবে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে ২০০২ সালের ২২ই জুলাই নিউজিল্যান্ড এর সাথে টেস্ট অভিষেক। অভিষেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেই খেললেন ৫৫ রানের দূর্দান্ত ইনিংস। জানান দিলেন ক্রিকেট দুনিয়ায় নিজের আগমনের।

টেস্টে ক্রিকেটে ২০০২/০৩ সালটা দূর্দান্তই কেটেছে তার। এই সময় মাত্র ১২টি টেস্ট খেলে ৭৬ বেস্টে ৫টি ফিফটির সাহায্যে ৬০৩ রান করেন। ক্যারিয়ারের ৭ম টেস্টের দুই ইনিংসেই ফিফটি করেন তিনি। ক্যারিয়ার সেরা ৭৬ রানের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংস এ খেলেন ৫৫ রানের ইনিংস। ২ বৎসরের পারফরম্যান্সে দলের সেরা ব্যাটসম্যানই হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে এসেই খেই হারিয়ে ফেললেন তিনি। ২০০৪ সালে ৫টি টেস্ট খেলে ২৫ বেস্টে মাত্র ৬৯ রান করায় দল থেকে বাদ পড়ার পর আর কখনোই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি। ২০০৪ সালের ১৯ অক্টোবর শুরু হওয়া টেস্টেই তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট।টেস্টে দলের হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলে ৭৬ বেস্টে ৫ ফিফটিতে ৬৬২ রান করেন তিনি।

২০০২ সালের ৭ই আগষ্ট শ্রীলংকার সাথে ওয়ানডে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচে ২৪ বলে ১৪ রান করে গুনারতেœর বলে এলবির শিকার হন তিনি। তারপর দলের হয়ে ২০ ওয়ানডে খেলে ৬১ বেস্টে ৩ ফিফটিতে ৩৮৩ রান সংগ্রহ করেন তিনি। ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ৪ রান করে আউট হওয়ার পর আর কখনোই জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলেননি তিনি।

২০০৪ সালের টেস্টের শেষ ৫টি ম্যাচ খারাপ হলেও ২০০৪ সালের ওয়ানডের শেষ ৩টি ইনিংস এ ৫৫ বেস্টে ৯৯ রান করার পরও দল থেকে বাদ পড়ার রহস্যটা অজানাই থেকে গেলো।

২০০২/০৩ সালে দেশের হয়ে দূর্দান্ত ক্রিকেট খেলে দেশের মানুষের মনে ঠাই পেয়েছিলেন হান্নান সরকার। হয়ে উঠেছিলেন দেশের ক্রিকেটের এক রত্ম। কিন্তু ২০০৪ সালের টেস্ট ব্যর্থতায় তাকে ওয়ানডে দল থেকেও কেন বাদ দেওয়া হল তা আজও রহস্যই রয়ে গেলো ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেরা ক্রিকেটারদের নাম নিলে এখনো পুরনো ক্রিকেটপ্রেমীরা হান্নান সরকার এর নাম বলেন, স্মরণ করেন তাকে।সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ২০০৪ সাল থেকে আজ দীর্ঘ ১৩ বৎসর পার হলেও বর্তমানে তার বয়স মাত্র ৩৩ বৎসর। অর্থাৎ ২০ বৎসর বয়সেই জাতীয় দলের দরজা তার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আজকের এই সময়ে যেভাবে আমরা ক্রিকেটপ্রেমীরা ক্রিকেটারদের বিপদে আপদে ঝাপিয়ে পড়ি, তখনকার সময়ে এমন হলে অকালেই ঝড়ে পড়তে হতো না হান্নান সরকারকে। হয়তো এতদিনে তিনি শুধু দেশ সেরাই নয়, হতে পারতেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার।

২০১১ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন নিয়মিতই। ২০১১ সালের ৫ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৪ দিনের টেস্টই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ স্বীকৃতি প্রাপ্ত ম্যাচ। সর্বশেষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গ্রীণ বনাম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড রেড দলের মধ্যকার টি২০ খেলায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। ম্যাচে ৩২ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
আর কোনদিনই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলা হবে না তার। মাত্র ২০ বৎসর বয়সেই যার ক্যারিয়ার শেষ হয়েগিয়েছিল এই অবস্থায় এসে যে মাঠে নেমে ব্যাট চালাতে পারছেন, এটাই বিশাল ব্যাপার।

জাতীয় ক্রিকেট দলে তোমার অবদান সামান্য হলেও আমরা কখনোই ভুলবো না তোমাকে। ধূমকেতুর মতো তোমার আবির্ভাব এবং পতন আমরা কখনোই ভুলতে পারবো না।

আর কোনদিনই জাতীয় দলে ফেরা হবে না। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার জন্য অনুরোধ করছি তোমায়। ফিরে এসো ঘরোয়া ক্রিকেটে,এই কামনায়।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক