প্রতিভার অপচয়ের নাম মোহাম্মদ শরীফ

133

বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একজন পারফেক্ট পেস অলরাউন্ডারের অভাব রয়ে গেছে। অথচ টেস্ট জমানার শুরুতেই মোহাম্মদ শরীফ নামের একজনের আবির্ভাব হয়েছিল। ঠিক পারফেক্ট না হলেও বোলিং এর পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দ্যূতি ছড়ানোর সামর্থ্য ছিল তার।

 

অনেক সম্ভাবনা নিয়ে ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে ৮ রান ও ১ উইকেট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।

 

২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ৮টি টেস্ট খেলে ভালো করতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।

দীর্ঘ ৫ বৎসর পর আরো জাতীয় টেস্ট দলে ফিরেন তিনি। অত:পর ২০০৭ সালে ভারত ও শ্রীলংকার সাথে ২টি টেস্ট খেলে উইকেট শুণ্য থাকার পর দল থেকে বাদ পরে আর কোনদিন টেস্ট দলে ফেলা হয়নি তার।  ১০টি টেস্ট খেলে বল পাকিস্তানের সাথে ৪ উইকেট বেস্টে মাত্র ১৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৪ বেস্টে মাত্র ১২২ রান সংগ্রহ করেন।

 

তবে ২০০২ সালে বাদ পড়ার আগের টেস্টেই ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট শিকার করার পরও দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি অজানাই রয়ে গেছে।

 

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে অপরাজিত ১৩ রান ও ১ উইকেট সংগ্রহ করেন। পরের ওয়ানডেতেই ৩ উইকেট শিকার করেন। তৎপর টানা ৩ ম্যাচে উইকেট শুণ্য থাকার পর পাকিস্তানের সাথে ক্যারিয়ার সেরা ৩ উইকেট শিকার করেন। পরের ম্যাচে ২ উইকেট শিকার করেন। পরপর দুটি ম্যাচে ভালো বোলিং করার পরও টেস্টের মতো ওয়ানডে থেকেও অজ্ঞাত কারনে বাদ পড়েন তিনি।

২০০৭ সালে পুনরায় জিম্বাবুয়ের সাথে ওয়ানডে দলে ফেরেন তিনি। ম্যাচে ৬ রান ও ১ উইকেট শিকার করার পর আবারো ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়লে আর কোনদিন দলে ফেরা হয়নি।

 

৯টি ওয়ানডে খেলে পাকিস্তানের সাথে ৩ উইকেট বেস্টে মাত্র ১০ উইকেট শিকার করেন এবং ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৩ রান বেস্টে মাত্র ৫৩ রান সংগ্রহ করেন।

 

ঘরোয়া ক্রিকেটে চারদিনের ১১৪ ম্যাচ খেলে ১৪৭ রান বেস্টে ১ সেঞ্চুরী ও ৭ ফিফটিতে ২৭১১ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৬ উইকেট বেস্টে ৩৬১ উইকেট শিকার করেন।

৮৫টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলে ৫৮ বেস্টে ২ ফিফটিতে ৭৩৭ রান ও ৫ উইকেট বেস্টে ১৩১ উইকেট শিকার করেন।

 

ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচ ৩৭৫ উইকেট ও ২৮৮৭ রান এবং লিস্ট এ ম্যাচে ৮৩৯ রান ও ১৮০ উইকেটই তার সামর্থ্যরে পরিচয় দেয়। জাতীয় দলের টোটাল পারফরম্যান্স খারাপ মনে হলেও ২০০২ সালে বাদ পড়ার আগের টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভালো করেও দল থেকে বাদ পড়াতেই তার ক্যারিয়ার এলোমেলো হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে দীর্ঘ ৫ বৎসর পর দলে ফিরলেও থিতু হতে না পারায় ভবিষ্যতে আর জাতীয় দলে দেখার কোন সম্ভাবনা নাই।

 

ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনো নিয়মিত ভালো করছেন তিনি। বর্তমান বয়স মাত্র ৩২। আশা করবো আরো বেশ কয়েক বৎসর ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্যের সাথে খেলবেন তিনি। এই কামনায়…………….

 

জুবায়ের আহমেদ

ক্রীড়া লেখক