বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের ফাস্ট বোলার বিকাশ রঞ্জন দাশ (মাহমুদুর রহমান)

২০০০ সালের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি অবিস্মরণীয় দিন। এ দিনেই ভারতের সাথে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামে। তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী ও বাংলাদেশী অধিনায়ক নাইমুর রহমান দূর্জয় এর টস করার মুহুর্তটি এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সেরা একটি মুহুর্ত।

একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টেই অভিষেক হয় বিকাশ রঞ্জন দাশের। পরবর্তীতে যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মাহমুদুর রহমান রানা হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত।

টস জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং নিলে আমিনুল ইসলাম এর ১৪৫ ও হাবিবুল বাশারের ৭১ রানের সুবাদে ৪০০ রানের বড় সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ম্যাচে বিকাশ রঞ্জন ১১ নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ২ রান করে আউট হন।

বল হাতে ১৯ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন। ভারতীয় ওপেনার রামেশকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি।

ভারতের ৪২৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয়ে যায়। বিকাশ রঞ্জন শুণ্য রানে আউট হন।

দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটের বিকাশ ব্যবধানে জয়লাভ করে ভারত। একমাত্র উইকেটটি শিকার করেন হাসিবুল হোসাইন। ৩ ওভারে ৮ রান দিয়ে উইকেট শুণ্য থাকেন বিকাশ রঞ্জন।

অভিষেক টেস্টের পর আর জাতীয় দলের হয়ে ডাক পাননি বিকাশ রঞ্জন। জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচও খেলা হয়নি তার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটি মাত্র টেস্টই খেলতে পেরেছেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত তিনি। ১৯টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ৫ উইকেট বেস্টে মোট ৩৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২০টি লিষ্ট ১ ম্যাচ খেলে ৩ উইকেট বেস্টে মোট ১৮ উইকেট শিকার করেন।

২০০৪ সালের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি তাকে। অবাক করা বিষয় ২০০০ সাল তথা দীর্ঘ ১৬ বৎসর পূর্বে ক্যারিয়ারের একমাত্র টেস্ট খেললেও বর্তমানে তার বয়স মাত্র ৩৩ বৎসর অর্থাৎ মাত্র ১৭ বৎসর বয়সে অভিষেক টেস্ট খেলার পর এক সময় ইনজুরীতে আক্রান্ত হয়ে আর ক্রিকেটে ফেরা হয়নি তার। অথচ একজন ক্রিকেটার ৩০ উর্ধ্ব সময়েই ক্যারিয়ারের শক্ত অবস্থানে থাকেন।

২০০৪ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে একটি ব্যাংকে কর্মরত আছেন তিনি।

বোর্ড/নির্বাচকদের সুদৃষ্টি থাকলে এবং পরবর্তীতে ইনজুরী আক্রান্ত না হলে সম্ভাবনাময়ী এ পেসার জাতীয় দলেই ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন, কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক