বাংলাদেশের স্পিন লিজেন্ড আবদুর রাজ্জাক

197

(ইতিহাসের পাতা থেকে)

জুবায়ের আহমেদ: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক জ্বলন্ত তারা আবদুর রাজ্জাক। বাম হাতি এই লেগ স্পিনার আজ রহস্যাবৃত হয়ে দীর্ঘদিন যাবত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাহিরে আছেন।

২০০৪ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে হংকং এর বিরুদ্ধে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচে ১১ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে ৩ বলে ৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২১ রান সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় ইনিংস রাজ্জাক ৯ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনের জানান দেন তিনি। নবাগত হংকং অলআউট হয় মাত্র ১০৫ রানে। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ১১৬ রানে।

তারপর ২০১৪ সালের আগষ্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর সাথে শেষ ওয়ানডে খেলার আগ পর্যন্ত ২০০৭ ও ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত দুইটি বিশ্বকাপ খেলা সহ ১৫৩ ম্যাচ খেলে অপরাজিত ৫৩ রান বেস্টে সর্বমোট ৭৭৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি। সর্বোচ্চ ৫৩ রান সংগ্রহ করেন মাত্র ২২ বলে, ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু তারপরও ম্যাচটি হারতে হয় বাংলাদেশকে।

বল হাতেই আসল কাজটা করেন তিনি। ১৫৩ ম্যাচে ৪ বার ৫ উইকেট প্রাপ্তি সহ শ্রীলংকার সাথে ২৯ রানে ৫ উইকেট বেস্টে সর্বমোট ২০৭ উইকেট সংগ্রহ করেন তিনি, যা দেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড ছিল।

২০০৬ সালে অষ্ট্রোলিয়ার সাথে টেস্ট অভিষেক। অভিষেক ম্যাচে ৩০ ওভার বল করে উইকেট শুণ্য থাকেন। এ ম্যাচেই অষ্ট্রোলিয়ার বোলার গিলেস্পী ৪ পজিশনে ব্যাট করে ২০১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংস এ বাংলাদেশের রফিকও ৫৩ বলে ৬টি ছক্কায় ৬৫ রান করেন।

২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারীতে শ্রীলংকার সাথে শেষ টেস্ট খেলার আগ পর্যন্ত দলের হয়ে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেন তিনি। সর্বোচ্চ ৪৩ রান বেস্টে সর্বমোট ২৭৯ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতেও টেস্টে বিবর্ণ তিনি। ১২ টেস্টে ৩ উইকেট বেস্টে মাত্র ২৩ উইকেট সংগ্রহ করেন। যার কারনে দীর্ঘ ১০ বৎসর টানা ক্রিকেট খেললেও মাত্র ১২টি টেস্ট খেলতে পারেন।
২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে টি২০ ম্যাচে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচে রান করতে না পারলেও বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন।

দলের হয়ে ৩৪টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৯ রান বেস্টে মাত্র ৪১ রান সংগ্রহ করেন তিনি। বল হাতে ৩৪ ম্যাচে আফ্রিকার সাথে ৪ উইকেট বেস্টে সর্বমোট ৪৪ উইকেট সংগ্রহ করেন তিনি।  

আন্তর্জাতিক শর্টার ভার্সনে দূর্দান্ত হলেও আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে পুরোপুরিই খোলসবন্দী তিনি। অথচ ডমেস্টিকে ৪ দিনের ম্যাচে দূর্দান্ত তিনি। ৯৩ ম্যাচ খেলে ইনিংসে ২৫ বার ৫ উইকেট এবং ম্যাচে ৮ বার ১০ উইকেট সংগ্রহে ৯ উইকেট বেস্টে ৪২৫ উইকেট সংগ্রহ করেন তিনি যা দেশের হয়ে ওয়ানডের মতো ৪ দিনের ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড।

আন্তর্জাতিক টেস্ট আর ঘরোয়া ৪ দিনের টেস্ট ম্যাচের চিত্র আকাশ পাতাল তফাৎ। ডমেস্টিকে যতটাই ভয়ংকর তিনি, আন্তর্জাতিক টেস্টে ততটাই বিবর্ণ তার পারফরম্যান্স। তারপরও এ নিয়ে কারোরই কোন হতাশা নেই। কেননা তিনি ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচে দলের সেরা পারফরম্যার।

 

দীর্ঘ প্রায় ২ বৎসর যাবত দলের বাহিরে আছেন তিনি। যতটা না অফফর্মের কারনে ততটাই রহস্যজনক কারনে। বোর্ডের মনমানসিকতা দেখে মনে হচ্ছে, আর কোনদিনই তাকে ফিরিয়ে আনবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আসা কিংবা পুনরায় দলে আসার একটাই মূলমন্ত্র তা হল ডমেস্টিকে পারফর্ম করা, আর এই কাজটা রাজ্জাকের চেয়ে কেউ ভালো করেনি গত দুই বৎসরে, তারপরও নির্বাচক/বোর্ড তাকে নিয়ে কোন আশার কথা শুনাননি।

আমরা ক্রিকেট ভক্তরা তার অবদানের কথা ভুলে যাইনি, কোনদিন ভুলবোও না। আশা করবো জাতীয় দলে ফিরে আসবেন তিনি, তাকে দলের প্রয়োজন হবেই, এমন দিনের দিকেই চেয়ে আছি আমরা। ভালো থাকো সব সময়।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক