বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের টেস্ট পরিসংখ্যান

301

জুবায়ের আহমেদ, ক্রিকবল নিউজ:২০০০ সালে টেস্ট অঙ্গনে পা রাখে বাংলাদেশ। ভারতের সাথে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত লড়াই করেও ২য় ইনিংসের ব্যর্থতায় পরাজয় দিয়েই টেস্টে পথচলা শুরু হয়। ২০০১ সালে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে মুলতানে পাকিস্তানের সাথে প্রথম টেস্ট খেলে টাইগাররা, সে ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে।

তারপর ২০০১ সালেই বাংলাদেশের মাটিতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে আসে পাকিস্তান, সে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে স্বাগিতকরা।

২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে ১০টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৯টিতেই পরাজয়ের বিপরীতে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে তামিম-ইমরুল বীরত্বে পাকিস্তানের সাথে দাপটীয় ড্র করে টাইগাররা। ৯টি পরাজয়ের মধ্যে ৪টিতেই ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়, ৪ ম্যাচে উইকেট ব্যবধানে ও সর্বশেষ ঢাকা টেস্টে ৩২৮ রানের ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে বাংলাদেশ। ৯টি পরাজয়ের মধ্যে প্রথম টানা ৩ ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা।

বাংলাদেশ দল একটি ড্রয়ের বিপরীতে ৯টি পরাজয়ের মধ্যে ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ১ উইকেটের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের গড়া ২৮১ রানের জবাবে রফিকের ঘূর্ণিতে মাত্র ১৭৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ২য় ইনিংসে বাংলাদেশ দল ১৫৪ রানে অলআউট হয়। অলক কাপালি ২২ রানের ইনিংস খেলার পথে চোখে আঘাত পেয়ে ফেরেন, পুনরায় মাঠে ফিরে লড়াই করলেও আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে রশিদ লতিফের মাটি থেকে তুলে আনা ক্যাচে আউট হন কাপালি, অবশ্য পরবর্তীতে এটি প্রমাণ হলে রশিদ নিষিদ্ধ হন এবং অধিনায়কত্বও হারান। জয়ের লক্ষ্যে ৪র্থ ইনিংসে ২৬১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে পাকিস্তান ২০৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শংকায় পড়লেও ৯ম উইকেটে ইনজামাম ও ওমর গুল দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান, ওমর গুল ৫০ বলে ৫ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে জয়ের কাছাকাছি চলে যায় পাকিস্তান, ২৫৭ রানে ৯ উইকেটের পতন ঘটলেও ইনজামামের অপরাজিত ১৩৮ রানই পাকিস্তানকে ১ উইকেটের জয় এনে দিয়েছিল। সে ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরও হান্নান সরকার ক্যাচ নিতে পারেননি, ওমর গুলের বিপক্ষে নিশ্চিত এলবির আবেদনেও সাড়া দেননি আম্পায়ার এবং পরবর্তীতে ওমর গুলকে ম্যানকাডিং করার সুযোগ পেলেও তা করেননি রফিক। রশিদ লফিতের মিথ্যে বলার বিপরীতে রফিকের মানবতা তখন বিশ্বজুড়ে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিল।

দুই দলের মধ্যকার সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ৬২৮ পাকিস্তানের। বিপরীতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৫৫৫/৬। সর্বনি¤œ ৯৬ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ১৭৫ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান।

৭ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরীতে ৬৫০ রান করেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ। ৪র্থ সর্বোচ্চ ও বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫৪ রান করেন হাবিবুল বাশার, ৬ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরী ও ৬ ফিফটিতে এ রান করেন বাশার। সর্বোচ্চ ৩টি সেঞ্চুরী হাফিজ ও ইউনিস খানের। সর্বোচ্চ ৬টি ফিফটি হাবিবুল বাশারের, ২য় সর্বোচ্চ ৪টি ফিফটি খালেদ মাসুদের।

বল হাতে মাত্র ৫ ম্যাচে ইনিংসে ৭ উইকেট বেস্টে সর্বোচ্চ ৩৪ উইকেট শিকার করেন দানিশ কানেরিয়া। দুই দলের মধ্যকার ৬ষ্ঠতম ও বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন মোহাম্মদ রফিক। ৩ ম্যাচে ইনিংসে ৫ উইকেট বেস্টে ১৭ উইকে শিকার করেন রফিক।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২৬ রান করেন আজাহার আলী। ২২৪ রান করেন মোহাম্মদ হাফিজ। ২০৬ রান করেন তামিম ইকবাল, ২০৪ রান করেন মোহাম্মদ ইউসুফ ও ২০০ রান করেন ইউনুস খান। ইমরুল কায়েস ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন।

বল হাতে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭উইকেট শিকার করেন দানিশ কানেরিয়া। কানেরিয়া আরো ২ বার ৬ উইকেট শিকার করেন, শোয়েব আক্তার, ওয়াকার ইউনুস, সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ তাইজুলও ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন একবার করে।

উইকেট কিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ২৬টি ডিসমিসাল করেন রশিদ লতিফ। ২য় সর্বোচ্চ ৯টি খালেদ মাসুদ ও ৩য় সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসাল করেন মুশফিকুর রহিম।

দুই দলের মধ্যকার উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ ৩১২ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের সাথে একমাত্র ড্রয়ের ম্যাচে এ কীর্তি গড়েন দুজন। যেকোন উইকেট মিলিয়েও এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২য় সর্বোচ্চ ২৫৯ রানের জুটি গড়েন ইউনিস খান ও আসাদ শফিক।

সর্বোচ্চ ৮টি ক্যাচ নেন ইউনিস খান। ৪র্থ সর্বোচ্চ ও বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬টি ক্যাচ নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫টি ক্যাচ নেন পাকিস্তানের সাদাব কাদের। ৪টি ক্যাচ নেন বাংলাদেশের রাজিন সালেহ ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ।