২০১৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে দূর্দান্ত ফর্মে থাকা কাটার মাস্টার ফিজকে দলভুক্ত করে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। আইপিএলে নিজের প্রথম আসলেই বাজিমাত করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। হায়দ্রাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করতে বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

প্রথম আসরেই শিরোপা জিতে আসা ফিজ পরবর্তী আসরেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন। বোল্টকে হটিয়ে খেলার সুযোগই পাননি। ১ ম্যাচে খেললেও ভালো করতে পারেননি।

পরবর্তী আসরে ছেড়ে দেওয়া মুস্তাফিজকে দলভুক্ত করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। একাধিক ম্যাচ খেললেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ফলাফল পরবর্তী আসরে ফিজকে রাখেনি মুম্বাই। অন্য কোন দলও নেয়নি।

২০১৯ ও ২০২০ আসরে দল না পাওয়া ফিজ চলতি (২০২১) আসরে রাজস্থানে জায়গা করে নিয়ে খেলছেন। এই দলটিতে আর্চার থাকায় খুব বেশি ম্যাচ পাবেন না ফিজ, এমনটা ধারণা করা হলেও আর্চার না থাকায় শুরু থেকে নিয়মিত খেলছেন মুস্তাফিজ।

শুরু থেকে স্লোয়ার ও কার্টারে ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে রাখলেও ততটা ভালো করতে পারছিলেন না, সেই সাথে ক্যাচ মিছের কারনে অনেকগুলো উইকেট বঞ্চিত হন।

আজ নিজের পুরনো দল হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে জ্বলে উঠলেন ফিজ। অসাধারণ সব ডেলিভারিতে ব্যাটারদের কাবু করে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। বাটলারের ৬৪ বলে ১২৪ রানের সুবাদে ২২০ রান করা রাজস্থান অসাধারণ জয় তোলে নিয়েছে ফিজ ও মরিসের দূর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে।

২০১৬ সালে ১৬ রানে ৩ উইকেট বেস্টে ১৭ উইকেট, ২০১৭ সালে ১ ম্যাচে উইকেটশুণ্য, ২০১৮ সালে ২৪ রানে ৩ উইকেট বেস্টে ৭ উইকেট এবং চলতি আসরে নিয়মিত ৭ ম্যাচ খেলে ২০ রানে ৩ উইকেট বেস্টে ৮ উইকেট শিকার করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় যৌথ ভাবে ৭তম স্থানে আছেন।

২০১৬ সালে ভালো খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিপরীতে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বিবর্ণ ছিলেন। যদিও ২০১৮ সালে মুম্বাইয়ের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন এক ম্যাচে। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্স ভালো ছিলো না। ২০১৭ ও ২০১৮ ছাপিয়ে ২০২১ সালে অসাধারণ খেলছেন ফিজ। ম্যাচের তুলনায় উইকেট সংখ্যা বা ইকোনমী আহামরি না হলেও ফিজের একেকটা ডেলিভারি পুরনো ফিজকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

এমন নৈপুণ্য ধরে রাখতে পারলে রাজস্থান উপকৃত হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের জন্যও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে নিঃসন্দেহে। তবে আইপিএলে যে গাইডেন্স পাচ্ছেন ফিজ, নিজ দেশের হয়ে খেলার সময় তা কতটুকু পান, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

জুবায়ের আহমেদ
০২/০৫/০২১