রঙিন জার্সিতে উনিশ থেকে বিশে পদার্পণ মাশরাফির

129

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক কে? এমন প্রশ্ন করা হলে, অধিকাংশ লোক বলবেন মাশরাফি বিন মোর্তুজার কথা। কেন তিনি সফল বা সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক এটার বিশ্লেষন করতে গেলে উঠে আসবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটের সেই ২০০১ সালে থেকে ২০২০ সাল এর পুরো গল্পটা। এ গল্প শুধু মাশরাফি নামের গল্প না। এই গল্প একজন ক্রিকেট যোদ্ধার গল্প।

মাশরাফি বিন মোর্তুজার ওয়ানডে গল্পটা শুরু সেই ২৩ নভেম্বর, ২০০১ সাল থেকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দিয়ে লাল-সবুজ জার্সির গল্প শুরু করেন মাশরাফি। এম. এ আজিজ স্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি বিন মোর্তুজার। অভিষেক ম্যাচে ৮.২ ওভার বল করে ২৮ রান খরচে তুলে নেন ২টি উইকেট। ঐ ৮.২ ওভারে ৩ ওভার ছিলো মেইডেন।

সেই ২০০১ থেকে শুরু করে ২০২০ শেষ হলো ১৯ বছর। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে ১৯ বছর শেষে ২০ বছরে পদার্পণ করলেন মাশরাফি। গত ১৯ বছরের জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ারে অভিশাপ হয়ে বারবার দেখা দিয়েছিলো ইনজুরি। যেখানে বিশ্বের বড় বড় ক্রিকেটাররা এক বা দুইটি ইনজুরিতে পরলে ক্রিকেট থেকে সরে যান সেখানে মাশরাফি সাত বার বসেছেন ছুড়ির নিচে। একেক বার ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন দুর্দান্ত গতিতে। কেউ কখনো যা কল্পনা করেনি মাশরাফি বিন মোর্তুজা তা বাস্তবে দেখিয়ে দিছেন।

ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২২০টি ওয়ানডে ম্যাচে খেলেছেন মাশরাফি বিন মোর্তুজা। ২২০ ম্যাচে ২৭০ টি উইকেট সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ওয়ানডে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি একমাত্র তিনিই। ২২০টি ওয়ানডে ম্যাচে ১৩.৭৪ গড়ে রান করেছেন ১৭৮৭। ওয়ানডে মাশরাফির সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ৫১রান।

উজ্জ্বল এই ওয়ানডে ক্যারিয়ার হতে পারতো আরো উজ্জ্বল। কিন্তু বারবার ইনজুরি তার ক্রিকেট জীবনের এক অপ্রাপ্তির গল্প।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এক যোদ্ধা মাশরাফি বিন মোর্তুজা। তাকে নিয়ে লেখা হয়েছে বই। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে এক নেতা ছিলো।