শুভ জন্মদিন বীরু

101


ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল ও হার্ডহিটার ওপেনার ব্যাটিং অলরাউন্ডার বীরেন্দ্র সেবাগের আজ ৪২তম জন্মদিন। ১৯৭৮ সালের ২০ অক্টোবর দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন এই তারকা ওপেনার। জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৯৯৯ সালে পা রাখা এই ক্রিকেটার দেশের হয়ে ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন। জিতেছেন ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। টেস্ট ক্রিকেটে ২টি ত্রিপল সেঞ্চুরী করা ব্যাটসম্যানের তালিকায় আছে সেবাগের নামও। টেস্ট ক্রিকেটে দ্রæততম ত্রিপল সেঞ্চুরীর মালিকও সেবাগ। প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবেও ত্রিপল সেঞ্চুরী করেন এই হার্ডহিটার ওপেনার। টেস্টে ত্রিপল ও ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরী আছে, এমন ব্যাটসম্যানের তালিকায় প্রথম নাম সেবাগের, পরবর্তীতে এমন কীর্তি গড়েছেন ক্রিস গেইল।
বীরু মানেই ঝড়ো ব্যাটিং, উইকেটে এসেই প্রতিপক্ষের বোলারদের গুড়িয়ে দিয়ে দলকে ঊড়ন্ত সূচনা এনে দেওয়া। ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেটের স্বাভাবিক ঝড়ো ব্যাটিং তিনি করেছেন ধের্য্যরে খেলা টেস্টেও। মেরে খেলেও টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ সফলতা অর্জন করা যায়, তার অন্যতম উদাহরণ সেবাগ।

১৯৯৯ সালে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করা সেবাগ ২০০১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৩১৯ রান বেস্টে ২৩ সেঞ্চুরী ও ৩২ ফিফটিতে ৮৫৮৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট বেস্টে মোট ৪০ উইকেট।

২০০৩ সাল পর্যন্ত ২৫১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২১৯ রান বেস্টে ১৫ সেঞ্চুরী ও ৩৮ ফিফটিতে ৮২৭৩ রান করেছেন। বল হাতে ৪ উইকেট বেস্টে মোট ৯৬ উইকেট শিকার করেছেন।

২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১৯ ম্যাচ খেলে ৬৮ রান বেস্টে ২ ফিফটিতে ৩৯৪ রান করেন।

জাতীয় দলের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে শতক না পেলেও সবধরনের টি২০ ক্রিকেট মিলিয়ে ১২২ রান বেস্টে ২টি শতক আছে সেবাগের। আইপিএলে দিল্লি ও পাঞ্জাবের হয়েই খেলেছেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আইপিএলে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০৪ ম্যাচ খেলে ২ সেঞ্চুরীতে করেছেন ২৭২৮ রান।

২০১১ সালের বিশ্বকাপে মিরপুরে বাংলাদেশের সাথে খেলেন ১৪০ বলে ম্যাচজয়ী ১৭৫ রানের ইনিংস। একই বছরের ঘরের মাঠে উইন্ডিজের সাথে করেন ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত প্রথম ও ২য় ডাবল সেঞ্চুরী। ১৪৯ বলে ২১৯ রানের ইনিংস খেলেন সে ম্যাচে।

২০০৮ সালে আফ্রিকার সাথে চেন্নাইয়ে মাত্র ২৭৮ বলে ত্রিপল সেঞ্চুরী করেন, যা টেস্ট ক্রিকেটে দ্রæততম ত্রিপল সেঞ্চুরীর রেকর্ড। এর আগে ২০০৪ সালে মূলতানে পাকিস্তানের সাথে ৩৬৪ বলে ত্রিপল সেঞ্চুরী করে ৩০৯ রানের ইনিংস খেলেন, যা এখনো টেস্ট ক্রিকেটে ৩য় দ্রæততম ত্রিপল সেঞ্চুরীর রেকর্ড হিসেবে বিদ্যমান আছে।


সেবাগ মানেই ২২ গজে কাঠের টুকরো গিয়ে গড়া ব্যাট নিয়ে নেমে উইকেটের চারপাশে একের পর এক চার ছয় হাঁকিয়ে বোলারদের চোখ লাল করে দেওয়ার অপরনাম। টেস্টে রেকর্ড ত্রিপল শতকের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটেও আছে ৬০, ৬৬, ৬৯, ৬৯, ৭৫, ৭৫, ৭৭ বলে ৭টি শতকের রেকর্ড।


টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটেই ১০ হাজার রান পূর্ণ করার সুযোগ থাকলেও মাত্র ৩৫ বছর বয়সে থামতে হয়েছে সেবাগকে। বলা যায় ভারতীয় ক্রিকেটেও সিনিয়রদের ছুড়ে ফেলা নীতির কাছে নতী শিকার করতে হয়েছে এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানকে। বিদায়টা সুখকর হয়নি সেবাগের মতো মতো একজন সফল ও বিধ্বসী ক্রিকেটারের।