শুভ জন্মদিন মোহাম্মদ রফিক, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

103

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক প্রথম তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ রফিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে কোচিংয়ে ক্যারিয়ার গড়া মোহাম্মদ রফিকের আজ ৫০তম জন্মদিন। ১৯৭০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো। প্রত্যাশা থাকবে সফল ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মতো কোচিংয়েও সফলতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের ক্রকেটে ভূমিকা রাখবেন।

২০০৮ সালে ৩৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শেষ করা মোহাম্মদ রফিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৭ সালে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। রফিকের অলরাউন্ডার (৩ উইকেট ও ৭৭ রান) নৈপুণ্যেই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট জয়েও বল হাতে ৫ উইকেট ও ব্যাট হাতে ফিফটি করে অসামান্য অবদান রেখেছেন। দেশের প্রথম টি২০ জয়ের ম্যাচেও ছিলেন রফিক। দেশের হয়ে তিনফরম্যাটের প্রথম জয়ের ম্যাচের একাদশে থাকা বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক।

বাংলাদেশ দল যখন টেস্টে দাড়াতেই পারতো না প্রতিপক্ষের সাথে, সে সময়েও টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র ৩৩ টেস্টের ৪৮ ইনিংসে ৭ বার ৫ উইকেট সহ ১০০ উইকেট শিকার করেছেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারনে প্রতিপক্ষকে ২ ইনিংসে ব্যাট করতে না পারা রফিক আক্ষেপে পুড়েছেন এ নিয়ে। না হয় ৩৩ টেস্টেই উইকেট সংখ্যা আরো বেশি হতে পারতো।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে মাত্র ২টি ফিফটি করা রফিক টেস্টে পেয়েছেন সেঞ্চুরী। ৪টি ফিফটিও আছে সাথে। ছয় হাঁকাতে পারদর্শী হওয়ায় বুমবুম রফিক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

৩৩ টেস্টে ১১১ রান বেস্টে ১ সেঞ্চুরী ও ৪ ফিফটিতে ১০৫৯ রান করেছেন। বল হাতে ইনিংসে ৬ উইকেট বেস্টে ৭ বার ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারে ৪৮ ইনিংসে সমান ১০০ উইকেট শিকার করেছেন। দেশের হয়ে টেস্টে অলরাউন্ডার হিসেবে হাজার রান ও শত উইকেট পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার রফিক।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ১১৫ ম্যাচ খেলে ৭৭ রান বেস্টে ২ ফিফটিতে ১১৯১ রান করেছেন। বল হাতে ৫ উইকেট বেস্টে ১২৫ উইকেট শিকার করেছেন। দেশের হয়ে ওয়ানডেতে অলরাউন্ডার হিসেবে হাজার রান ও শত উইকেট পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার রফিক।

দেশের প্রথম টি২০ ম্যাচটিই রফিকের খেলা একমাত্র টি২০ ম্যাচ। এ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৫ বলে ১৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেছেন।

দেশের হয়ে বোলার হিসেবে টেস্টে ও ওয়ানডেতে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট শিকারী মোহাম্মদ রফিক।

জাতীয় দলের হয়ে দূর্দান্ত খেলা এই অলরাউন্ডার খেলেছেন ৩টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দূর্দান্ত ক্রিকেট খেলে এশিয়া একাদশে জায়গা করে নিয়ে খেলেছেন।

ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সরল ও ভালো মানুষ রফিক বেশি লেখাপড়া করার সুযোগ পাননি। তাই ১৯৯৭ সালে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিজয়ী দলের সদস্য হিসেবে সরকার থেকে জমি ও একটি গাড়ী পাওয়ার পর প্রাপ্ত জমিতে স্কুল এবং গাড়ী বিক্রি করে স্কুল গড়ার জন্য ব্যয় করেছেন। শিক্ষিত জাতি গঠনে সামর্থের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে অসামান্য অবদান রেখেছেন।