শ্রীলংকার সাথে আশরাফুলের দূর্দান্ত পারফর্ম

68

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পুরোদমে ক্রিকেটে ফেরা এই তারকা ক্রিকেটার এখনো জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারছেন না, তবে হাল ছেড়ে না দিয়ে ফেরার প্রত্যয়ে এখনো কঠোর পরিশ্রম করছেন।

একটা সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে আশরাফুলের ব্যাট হাসলেই হাসতো বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে আশরাফুলের ব্যাটে লম্বা ইনিংসেই নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দিতো বাংলাদেশ। ২০০১ সালে শক্তিশালী শ্রীলংকার সাথে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে নিজের অভিষেক টেস্টেই সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরী করেছিলেন, যা আজো রেকর্ড হিসেবে বজায় আছে।

সেই থেকে শুরু, ধারাবাহিক ভাবেই লংকানদের সাথে ভালো খেলেছিলেন আশরাফুল, ক্যারিয়ার সেরা ১৯০ রানের ইনিংসও খেলেছেন ২০১৩ সালে শ্রীলংকার সাথে। দেশের হয়ে এবং শ্রীলংকার সাথে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরীর দিকে এগুতে থাকা আশরাফুল ব্যর্থ হয়ে ১৯০ রানে ফিরলেও প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ডাবল আদায় করেন মুশফিক। নাসিরের সেঞ্চুরী ও মোমিনুলের ফিফটিতে রানের পাহাড় গড়া ম্যাচে দাপটীয় ড্র করে লংকানদের সাথে।

৬১ টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬টি সেঞ্চুরীর ৫টিই করেছেন শ্রীলংকার সাথে। ১৩ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৯০ রান করেছেন। আশরাফুলের টেস্ট ক্যারিয়ারের গড় মাত্র ২৪.০০। কিন্তু শ্রীলংকার সাথে ১৩ টেস্টে গড় ৪৫.৪১, যা অবিশ্বাস্য। আশরাফুলের এভারেজ দেশের হয়ে সর্বোচ্চ থাকলেও সম্প্রতি মোমিনুল হক ভালো ক্রিকেট খেলে ৫৪.৪১ এভারেজ নিয়ে টপকে গেছেন আশরাফুলকে।

আশরাফুল ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই শ্রীলংকার সাথে এক হাজার রান করতে পারেনি টেস্টে। আশরাফুলের ৫টি সেঞ্চুরীর পাশাপাশি মোমিনুল শ্রীলংকার সাথে ৩টি সেঞ্চুরী করেন, আর কোন ব্যাটসম্যানের একাধিক সেঞ্চুরী নেই।

টেস্ট ছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটেও লংকানদের সাথে আশরাফুলের আছে দূর্দান্ত সফলতা। লংকানদের সাথে ওয়ানডে ফরম্যাটে শতক না পেলেও আছে ৪ ফিফটিতে ৫৭৩ রান এবং ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো শ্রীলংকাকে হারানোর ম্যাচেও ব্যাট হাতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।