বাদ পড়া ক্রিকেটারদের আমরা ভক্তরা ক্রিকেটারদের নিয়ে বিভিন্ন রকমের ধারণা পোষণ করলেও আসল ঘটনা কি তা পর্দার আড়ালেই থাকে। ফর্ম একটা দৃশ্যমান কারণ হলেও ইদানিং সময়ে ফর্ম নয়, নানা কারনে ক্রিকেটাররা বাদ পড়ছেন দল থেকে। তাছাড়া শুরুতে ঝলক দেখিয়ে কিছুদিন পরই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার উদাহরণতো আছেই। ইলিয়াস সানিও তাদেরই একজন।

একজন স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৫০ রান সংগ্রহ করে। ৯নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ৫ বলে কোন রান না করেই আউট হন সানি। তারপর বল হাতে ২৩ ওভারে ৯৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের ২৪৪ রানেই আটকে রাখেন। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে ক্যারিবিয়ানরা ১০০ রান করতেই ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন সানি। ম্যাচ ড্র হলেও ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে অভিষেকেই ম্যাচ সেরা হন সানি।

তারপর ২০১৩ সালের শ্রীলংকা টেস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৪টি টেস্ট খেলে ব্যাট হাতে অপরাজিত ২০ রান বেস্টে ৩৮ রান ও বল হাতে ৬ উইকেট বেস্টে ১২ উইকেট শিকার করেন। প্রথম টেস্টে ৭ উইকেট শিকার করলেও পরের তিন টেস্টে মাত্র ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।

২০১১ সালেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে পাকিস্তান ২৬২ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে ৭ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন সানি। জবাবে নাসিরের সেঞ্চুরী স্বত্বেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ মাত্র ১৮৬ রান করে। ফলে পাকিস্তান ৭৬ রানে জয়লাভ করে। ৯ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে ১ বলে কোন রান না করে অপরাজিত থাকেন সানি।

তারপর ২০১২ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ পর্যন্ত মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে অপরাজিত ১ রান বেস্টে ২ রান ও বল হাতে ২ উইকেট বেস্টে ৫ উইকেট শিকার করেন। তারপর আর জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডেতে ডাক পাননি তিনি।

২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের সাথে টি২০ অভিষেক। ম্যাচে সাকিবের ৫৭ ও জিয়াউর রহমানের ৪০ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ১৯০ রান সংগ্রহ করে। ব্যাট করার সুযোগ হয়নি সানির। বল হাতে ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে আয়ারল্যান্ডকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৯ রানের বেশি করতে দেননি সানি। টেস্টের মতো টি২০ অভিষেক ম্যাচেও সেরা ক্রিকেটার হন তিনি।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১২ সালের নিউজিল্যান্ড ম্যাচ পর্যন্ত মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলে ৫ রান বেস্টে ৯ রান ও বল হাতে ৫ উইকেট বেস্টে ৯ উইকেট শিকার করেন। মূলত প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট পেলেও পরের ৬ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট পাওয়ায় জাতীয় দলের হয়ে ব্রাত হয়ে পড়েন তিনি। তারপর আর জাতীয় দলের হয়ে টি২০ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

জাতীয় দলে একজন স্পেশালিষ্ট স্পিনার হিসেবে খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ব্যাটসম্যানও তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩টি সেঞ্চুরী ও ১২টি ফিফটি করেছেন তিনি। লিষ্ট এ ম্যাচেও ভালো ব্যাটিং করতেন তিনি। লিষ্ট এ ম্যাচে তার দল ঢাকাকে ২০১০ সালে প্রিমিয়ার লীগের ফাইনালে অপরাজিত ৮৭ রান করে বরিশালের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি।

মূলত: বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্পিনারদের ছড়াছড়ি হলেও টেস্ট ও টি২০ অভিষেক ম্যাচেই দূর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচ সেরা হওয়া ক্রিকেটারটি মাত্র ৪টি টেস্ট, ৪টি ওয়ানডে এবং ৭টি টি২০ ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলের হয়ে ব্রাত হয়ে যাবে, এটা কাম্য না হলেও শুরুতেই ঝলক দেখিয়ে পরে থমকে যাওয়াটা দূর্ভাগ্যজনকই, যার কারনে বর্তমানে জাতীয় দলে নেই তিনি।

সানির সামর্থ্য বাংলাদেশের সেরা স্পিনারদের মতোই। যদিও অফফর্মের কারনে দলের বাহিরে তিনি। তবে সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আবারো জাতীয় দলে ফিরবেন তিনি, এই কামনা।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক