১০ নাম্বারের বিশ্বসেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান আবুল হাসান রাজু

181

একজন ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবেই রাজুর আবির্ভাব। সম্ভাবনাময়ী পেসার হিসেবে ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে ১৯৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা বাংলাদেশকে রিয়াদের সাথে জুটিবদ্ধ হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন আবুল হাসান। ১০ নাম্বার ব্যাটসম্যান হিসেবে দীর্ঘদিনের পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে চুরমার করে দেন তিনি। নিজে ১১৩ রান করার পাশাপাশি ৩৮৭ রানের ভালো দলীয় স্কোর করতে সহযোগিতা করেন। রিয়াদ করেন ৭৬ রান।


সামুয়েল এর ২৬০, ব্র্যাভো ১২৭ ও চন্দলপলের ১৫০ রানের সুবাদে ৬৪৮ রানের পাহাড় গড়ে ক্যারিবিয়ানরা। বল হাতে ২৪ ওভারে ১১৩ দিয়েও উইকেট শুণ্য থাকেন রাজু। ২য় ইনিংসে সাকিবের ৯৭ ও নাসিরের ৯৪ রানের পরও বাংলাদেশ মাত্র ২৮৭ রান করেন। ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন রাজু। মাত্র ২৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১০ উইকেটে জয়লাভ করে ক্যারিবিয়ানরা।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৩ সালের শ্রীলংকা টেস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩টি টেস্ট খেলে ব্যাট হাতে ১১৩ রান বেস্টে ১৬৫ রান ও বল হাতে ২ উইকেট বেস্টে মাত্র ৩ উইকেট শিকার করেন।

২০১২ সালেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে ক্যারিবিয়ানরা মাত্র ১৯৯ রানে অলআউট হয়। ৪ উইকেট নেন সোহাগ গাজী। ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেট শুণ্য থাকেন রাজু। ২০০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে তামিম ও নাঈম ইসলামের ফিফটিতে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে বাংলাদেশ।

তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৫ সালের পাকিস্তান ম্যাচ পর্যন্ত ৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে  ব্যাট হাতে ৩ রান বেস্টে ৪ রান করেন তিনি। একজন স্পেশালিষ্ট বোলার হলেও ৬টি ম্যাচে তিনি কোন উইকেটই পাননি।

২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড এর সাথে টি২০ ম্যাচে অভিষেক। ম্যাচে সাকিব ও জিয়ার দূর্দান্ত ব্যাটিং এ বাংলাদেশ ১৯০ রান করে। ব্যাট করার সুযোগ হয়নি রাজুর। জবাবে ১১৯ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। ৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে উইকেট শুণ্য থাকেন রাজু।

তারপর ২০১২ সালের পাকিস্তান ম্যাচ পর্যন্ত ৪টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ৯ রান বেস্টে ৯ রান ও বল হাতে ২ উইকেট বেস্টে ২ উইকেট শিকার করেন।

মূলত একজন স্পেশালিষ্ট ফাস্ট বোলার হয়েও ৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে মাত্র ৩ উইকেট, ৬টি ওয়ানডে খেলেও কোন উইকেট শিকার করতে না পারা এবং ৪টি টি২০ ম্যাচ খেলে মাত্র ১টি ম্যাচে ২ উইকেট শিকার করলেও অপর ৩টি ম্যাচে উইকেট শুণ্য থাকাই বল হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় পাওয়া যায়।

অথচ নিজের অভিষেক টেস্টে ব্যাট হাতে ১১৩ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। তবে আসল কাজটা যেহেতু বল হাতে এবং এখানে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়াতেই জাতীয় দলে নেই রাজু।

৩ টেস্টের রান ও ব্যাটিং এভারেজ ঈর্ষণীয়, ৩টি টেস্ট ম্যাচের ৫ ইনিংসে ব্যাট করে ৩ ইনিংসে অপরাজিত থেকে ব্যাট হাতে ১১৩ রান বেস্টে ৮২.৫০ এভারেজে ১৬৫ রান করেছেন তিনি। ৩টেস্ট দিয়ে পরিসংখ্যান তৈরী না হলেও ৮২.৫০ এভারেজ সুন্দর দেখায়।

বোলার রাজুর আসল কাজটা বল হাতেই, বল হাতে পারফর্ম করার পাশাপাশি শেষের দিকে ব্যাট হাতে রান করতে পারলে তিনিও সেরাদের কাতারে আসতে পারবেন। বর্তমান বয়স মাত্র ২৪ বৎসর। এই বয়সে অনেক সেরা ক্রিকেটারের অভিষেকও হয়নি। আশা করবো ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত বোলিং করে পুনরায় জাতীয় দলে ফিরবেন তিনি, এই কামনা।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক