খালেদ মাহমুদকে চিনেন না, এমন ক্রিকেটপ্রেমী কমই আছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বল এক তারা। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে তিনি ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত আছেন তিনি। সহকারী কোচ, পরিচালক ও ম্যানেজার প্রতিটি পদেই তিনি সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তরুন প্রজন্ম এখনকার ক্রিকেটাদের সমর্থন করতে গিয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার নিয়ে, খেলার ধরণ নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন, অথচ তাদের হাত ধরেই রচিত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিত্তি। যার উপর দাঁড়িয়ে আজকের তামিম, সাকিব, মুশফিকরা সাফল্যের ডানা মেলে উড়ছেন।

১৯৯৮ সালে ভারতের সাথে খালেদ মাহমুদ এর ওয়ানডে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে ৪৭ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবং বল হাতে ৯ ওভারে ৩৮ রান দেন। বাংলাদেশের ১৯০ রানের জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ২ ওভার হাতে রেখে ম্যাচ জিতে যায় ভারত।

তৎপর জাতীয় দলের হয়ে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৭৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৫০ রান বেস্টে ৯৯১ রান করেন এবং বল হাতে ৪ উইকেট বেস্টে ৬৭ উইকেট শিকার করেন। ২০০৬ সালে শ্রীলংকার সাথে শেষ ওয়ানডে খেলেন। ম্যাচে ব্যাট হাতে ৩৬ রান করেন তিনি।

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬ রান করেন। বল হাতে ১৫ ওভার বল করে ৫৯ রান দিয়েও কোন উইকেট পাননি। সম্ভবত বৃষ্টির কারনে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট ও বল করা সম্ভব হয়নি তার।

তৎপর জাতীয় দলের হয়ে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ১২টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন তিনি। ব্যাট হাতে ৪৫ রান বেস্টে সর্বমোট ২৬৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৪ উইকেট বেস্টে ১৩ উইকেট শিকার করেন। ২০০৩ সালে ইংলান্ডের সাথে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেন তিনি। ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৫ রান করেন, বল হাতে কোন উইকেট পাননি।

মূলত ওয়ানডে ক্রিকেটেই তার ব্যাট বল বেশি কার্যকরী হওয়ায় টেস্ট ক্রিকেটে বেশি দেখা যায়নি তাকে। তাই ৯ বৎসরের ক্যারিয়ারের মাত্র ১২টি টেস্ট খেলা হয়েছে তার।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাথে ব্যাট হাতে ৩৪ বলে ২৭ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১০ ওভারে ৩১ রান দিয়ে আফ্রিদি, ইনজামামুল হক ও সেলিমের উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের টপঅর্ডার গুড়িয়ে দেন। ম্যাচ সেরা হন তিনি। যে ম্যাচ বাংলাদেশের ক্রিকেটের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর সময় আমি একজন ৯/১০ বৎসরের বালক হলেও আজও মনে আছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিং, বিজয় মিছিল। সারা দেশবাসীকে আনন্দে ভাসিয়েছিল খালেদ মাহমুদ।

 

২০০৬ সালে অবসরের পর নিয়মিত ভাবেই ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন পদবীতে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল তারা তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম ঐতিহাসিক জয়ে তার অবদান সবচেয়ে বেশি, ঠিক এ কারনে হলেও তার নাম আজীবন মনে রাখতে হবে ক্রিকেট প্রেমী ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।

জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি মাধ্যমেই সফল মুখ খালেদ মাহমুদ সুজন। আশা করবো আরো দীর্ঘদিন জাতীয় দলের পাশে থাকবেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে বিশ্বসেরা দলে পরিণত করতে যোগ্য অভিভাবকের মতো কাজ করবেন। এই কামনা।

ক্রীড়া লেখক

জুবায়ের আহমেদ